চাকদাহ জেলার রুপপুর গ্রামে হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদে এক ১২ বছরের মেয়ে নিহত

চাকদাহ জেলার রুপপুর গ্রামে হিন্দু-মুসলিমের ভেদাভেদে এক ১২ বছরের মেয়ে নিহত by Wb News Info (WBNI)

কটা মেয়েকে তার বাবা ছাড়া আর কেউ তেমন ভালবাসতে পারে না ! তেমনই একটি মেয়ের কাছের তার বাবাই সব ভালবাসার মানুষ ও আবদারের সব । কিন্তু হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদে রুবিনার বাবা পারলো না তার আদরের মেয়েকে বাঁচাতে ।

কেন বাঁচাতে পারলো না সাহিল তার মেয়েকে ? তারই সাথে পুরো ঘটনাটি তুলে ধরা হয়েছে ।

চাকদাহ জেলার রুপপুর গ্রামে হিন্দু-মুসলিমের ভেদাভেদে এক ১২ বছরের মেয়ে নিহত by Wb News Info (WBNI)
চাকদাহ জেলার রুপপুর গ্রামে সাহিল এবং রুবিনা

চাকদাহ জেলার রুপপুর গ্রামে ‘সাহিল’ বাস করত তার মেয়ে ‘রুবিনাকে’ নিয়ে । সাহিলের স্ত্রীর মেয়ে পুত্রি রুবিনা হওয়ার সময় রুবিনার মা মারা গিয়েছিলেন । ছোটো বেলা থেকে সাহিলই তাকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছে, বড়ো অভাবের মধ্যে দিয়ে । রুবিনাদের ১টি গরুও ছিল এবং গরুর দুধ ও ঘুটে বাজারে বিক্রি করে রুবিনাদের কোনও রকমে সংসার টি চলত । সাহিল চাকদাহ জেলার রুপপুর-হিন্দু গ্রামে বাস করত তাই হিন্দুরা সবাই সাহিলকে এক কোনে ঠেসে রেখেছিল । সাহিলের মেয়ে রুবিনা যখন ১২ বছর তখন তাদের গরুটির রোগ হয় তারপর সাহিলের অবস্তা খুবই খারাপ হয়ে পরে আর্থিক দিক থেকে । এমনকি সাহিলের এমন সময় চলে আসলো নিজেদের খাবার টাকা পর্যন্ত নেই, তো এত দিনের গরুটিকে কি খাওয়াবে এটা ১ টা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ালো সাহিল এবং রুবিনার কাছে । সাহিলের অনেক সপ্ন ছিল তার মেয়ে রুবিনাকে পড়াশুনো শিখিয়ে খুব বর করবে । কিন্তু রুবিনা যেই স্কুলে পড়তো সেই স্কুলের হেডমাস্টার রুবিনাকে স্কুলে ভর্তি নেয়নি । রুবিনা খুব কষ্ট পেল এবং কাঁদতে কাঁদতে তার বাবা সাহিলকে বলল বাবা আমি আর স্কুলে পরবো না । তখন তার বাবা সাহিল কাঁদতে কাঁদতে তাকে জরিয়ে ধরে বলল আমি তোঁর হতভাগা বাবা আমাকে ক্ষমা করে দে মা

রুবিনা তার বাবার চোখে জল দেখে বলল বাবা তুমি কেঁদোনা, বাবা তুমি কেঁদোনা ! স্কুলটা আমাদের গরিব দের জন্য না তাই বাবা আমি আর কখনো কোন দিন স্কুলে পরানোর কথা বলব না তোমাকে ।

রুবিনা তার বাবাকে বলল বাবা তুমি আমাদের গরুটাকে কি ভাবে বাঁচাবে ?

ওর বাবা চোখের জল মুছে বলল ঠিক বলেছিস মা, রুবিনা ও রুবিনার বাবা তাদের গরুটিকে খুব ভালবাসে । গরুটিকে ও মেয়ের মুখে দুটো অন্ন তুলে দেবার জন্য চাকদাহ জেলার রুপপুর গ্রামে এক নামকরা জমিদার বিরেন্দ্রানাথ ঠাকুরের কাছে কাজের সন্ধানে গেল । তো সাহিলকে জমিদার বিরেন্দ্রানাথ ঠাকুর একটি কাজ দিল আর বলল সাহিল তোকে পুরো জমিটা একা চাষ করতে হবে তাও বলদ গরু ছাড়া ।

তুই কি পারবি কাজটা করতে ? ভেবে দেখ তারপর করতে পারলে বলিস , যে হাঁ আমি রাজি এবং কাজটি করতে পারবো !

চাকদাহ জেলার রুপপুর গ্রামে হিন্দু-মুসলিমের ভেদাভেদে এক ১২ বছরের মেয়ে নিহত by Wb News Info (WBNI)
চাকদাহ জেলার রুপপুর গ্রামে রুবিনা

সাহিল একটু চুপ করে থেকে তারপর বলল হাঁ মালিক আমি রাজি । সাহিল পুরো জমি চাষ করে দেবে তাই তাকে জমিদার বিরেন্দ্রানাথ ঠাকুর দু’মুঠো চাল দিল আর কোন টাকা পয়সা দিল না । সাহিল কোন কথা না বলে চাল নিয়ে চুপ চাপ বাড়ি চলে গেল তার মেয়ে রুবিনার কাছে । সাহিল তার মেয়েকে বলল মা রুবিনা এক গ্লাস জল দে তো গলা শুকিয়ে গেল । রুবিনা মুসলিম তাই তাকে কেউ পুকুর থেকে জল নিতে দিত না , কেউ যদি জল তুলে তার কলসিতে তুলে দিত তবেই সে জল নিয়ে বাড়ি ফিরত । রুবিনা জল আনতে গেল পুকুরে কিন্তু কিছু খারাপ মহিলা তাকে জল নিতে দিল না । সে সারাদিনের জন্য জল আনতে গিয়ে ওখানে প্রখর ভাবে দাড়িয়ে ছিল কিন্তু কেউ জল দিল না । রোদে দাড়িয়ে থাকতে থাকতে রুবিনার শরীর খুব অসুস্ত হয়ে পরে । মেয়েটি তিন দিন ধরে কিছু খায়নি তার ওপর এতো রোদে দাড়িয়ে ছিল । সে কষ্ট করে কোন মতে ঘরে যায় ।

চাকদাহ জেলার রুপপুর গ্রামে হিন্দু-মুসলিমের ভেদাভেদে এক ১২ বছরের মেয়ে নিহত by Wb News Info (WBNI)
চাকদাহ জেলার রুপপুর গ্রাম অনেক টা দেখানো হয়েছে

শেষ মেশ রুবিনা ও আর পারছে না জলের জন্য ছটফট করতে লাগল । সাহিল এসে দেখে এদিকে তার মেয়ে এক কোনে পরে আছে । সাহিল চিৎকার করে রুবিনাকে জরিয়ে ধরে দেখে তার হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে । সাহিল তার অসুস্ত মেয়েটিকে তাদের গরুর কাছে রেখে যায় এবং গরুটি রুবিনাকে দেখে ডাকতে আরম্ভ করল এমনকি গরুটির চোখ দিয়ে জল পরতে শুরু করল । গ্রামের চার পাঁচ জন ছুটে আসে কিন্তু কেউ মেয়েটির কাছে এসে দেখল না মেয়েটির কি হয়েছে আদেও বেঁচে আছে কি না সবাই বলা বলি করছে । একেতেই মুসলিম তারপর বেঁচে আছে না , মরা ! কে জানে ! তাই কেউ ধারেও আসলো না । এদিকে সাহিল ডাক্তার ডাকতে গেল তার মেয়ে রুবিনাকে বাঁচানোর জন্য । ডাক্তার প্রথমে আসতে চাইছিল না , ডাক্তারের বউ বলল একেতে আমাদের কোন সন্তান নেই তার উপর তুমি যদি এই বাবার কষ্ট না বোঝো তো এই সময় কে বুঝবে বল । তুমিতো মানুষের ঈশর আর তুমিতো পারো মানুষের প্রান ফিরিয়ে দিতে তো যাও আর দেরি কর না । অনেক দূর থেকে ডাক্তার ডেকে নিয়ে আসতে আসতে সবার মুখে সোনা গেলো রুবিনা মারা গেছে । ডাক্তার এসে রুবিনার নারি দেখে বলল এ অনেক্ষন আগেই মারা গেছে তুমি অনেক দেরি করে ফেলেছ । সাহিল তার মেয়েকে জরিয়ে খুব জরে কান্না করতে লাগল আর বলছে এই পৃথিবীতে যেন আমার মত হতভাগা বাবা আর কারো না হয় আল্লা । মেয়ের মুখে দুটো অন্ন তুলে দাওয়ার জন্য বাবা এত কষ্ট করে দু-মুঠো চাল আনল তাও মেয়ের মুখে তুলে দিতে পারলো না ।

যদিও ওই সময় গ্রামের কয়েকটি বউ যদি রুবিনাকে জল দিয়ে সাহায্য করত তাহলে হয়তো রুবিনার জীবনটা বেঁচে যেত । এই খবরটি যদিও এখন কার না, তবুও এই খবরটির বিশেষ ভাবে যাচাই করা হয়েছে , শুধু মাত্র আপনাদের কাছে সত্যি ঘটনাটি নিয়ে আসার জন্য । এই ঘটনাটি ২০০৯ সালের ঘটনা, সেই সময় এই বেপারটি নিয়ে কেউ বেশি মাতা মাতি করে নি । তাই আপনাদের জানানো WBNI-এর কর্তব্য । WBNI-এর দায়িত্ব পশ্চিমবাংলার A TO Z খবর আপনাদের কাছে পৌঁছে দাওয়া । ১টি কথা মনে রাখবেন WBNI যে খবর তুলে ধরে সেই সব খবর, হয় সব থেকে আধুনিক না হয় থেকে সব থেকে আগে । বেশি জানতে ওয়েবসাইটি আরও ভালো করে চেক করুন এবং আরও নতুন নতুন খবর জানতে এখুনি ইমেইল সাবমিট করুন WB NEWS INFO (WBNI)-এর ওয়েবসাইটে । আর এই খবরটি জেনে আপনাদের কি মতামত সেটাও জানাবেন আমাদের কমেন্ট বক্সে কারন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কি জানাতে চায়, কি বলতে চায় সেটা জানাও WBNI-এর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *